মনা নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গত ১৬/১১/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ইয়াসিন মিয়া (২২), পিতা বিল্লাল মিয়া, সাং-ফরদাবাজ, ডাকঘর-লবির বাজার, থানা-বাঞ্ছারামপুর, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এ/পি সাং-১২৬/এ, জুরাইন তুলাবাগিচা কানার মাঠ (জনৈক হাবিব মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-শ্যামপুর, জেলা-ঢাকা অটোরিক্সা নিয়া ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে বের হয়। পরবর্তীতে যথাসময়ে বাড়ি ফিরে না আসায় ইয়াসিন মিয়ার পিতা বিল্লাল মিয়া তার ছেলের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করিলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পায়। অতঃপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলে ইয়াসিন মিয়া এর মৃত দেহ দোহার থানা হেফাজতে আছে। তখন তিনি দোহার থানায়ে এসে উপস্থিত লোকজনের মুখে জানতে পারেন ইং ১৭/১১/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা তার ছেলে ইয়াসিন মিয়াকে দোহার থানাধীন নিকড়া প্রেমতলা এলাকায় এনে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় জনসাধারন ঘটনাস্থল থেকে তার ছেলেকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ছেলেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ইং ১৭/১১/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৭.৫০ ঘটিকার সময় মৃত ঘোষনা করেন। তার ছেলে ইয়াসিন মিয়ার সাথে থাকা অটোরিক্সা পাওয়া যায় নাই। উক্ত ঘটনায় মৃত ইয়াসিন মিয়ার পিতা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে দোহার থানায় অভিযোগ দায়েল করিলে দোহার থানার মামলা নং-১৬ তারিখ ১৮/১১/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশক্রমে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ এর তত্বাবধানে দোহার থানার একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ১৮/১১/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ রাত ০২.৩৫ ঘটিকার সময় দোহার থানাধীন বানাঘাটা এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী সোহাগ (২৮), পিতা-শরিফুল ইসলাম, মাতা-অঞ্জনা বেগম, সাং-সৎবাজার, রংপুর পৌরসভা, থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুর, এপি সাং-জয়পাড়া গাংপাড়, আব্দুর রশিদ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-দোহার, জেলা-ঢাকাকে গ্রেফতার করেন এবং অটোরিক্সা উদ্ধার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সোহাগ (২৮) ঢাকা জুরাইনে অবস্থানকালে ইয়াসিন ও সোহাগের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পরে সোহাগ জুরাইন থেকে দোহার থানাধীন খাড়াকান্দা নামক স্থানে জনৈক মোকলেস নামক ব্যক্তির গ্যারেজে কাজ নেন। গত ১৬/১১/২০২৫ তারিখে সোহাগ ঢাকার জুরাইনে গিয়ে ইয়াসিনের সঙ্গে দেখা করে এবং রাতে তারা একসাথে অবস্থান করে । পরদিন সকালে ইয়াসিনের নতুন অটোরিকশা নিয়ে দু’জন দোহারে আসে এবং সারাদিন একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। দিনের একপর্যায়ে সন্ধ্যায় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে অটোরিকশা দখলের উদ্দেশ্যে সোহাগ পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিনকে দোহারের নিকড়া প্রেমতলা এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইয়াসিন এর নেশায় ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম আসলে সোহাগ সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে ইয়াসিনের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রাস্তায় ফেলে রেখে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় । গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে।