
ষ্টাফ রিপোর্টার নবদিগন্তঃ
বগুড়া সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র সার্জেন্টের মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। আজ সকালে সেনানিবাসের ভেতর থেকে সিনিয়র সার্জেন্ট মোজাম্মেল হকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ভাবে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং পরিবারের কাছে তথ্য গোপন রাখায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।
নিহত মোজাম্মেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের জানানো হয়েছে, মোজাম্মেল আর বেঁচে নেই। কিন্তু কীভাবে বা কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে সেনানিবাসের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মোজাম্মেল মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই।
শোকার্ত এক স্বজন প্রশ্ন তুলে বলেন, “সে সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র সার্জেন্ট। তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। সে কেন আত্মহত্যা করবে? আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না। আমাদের কাছে পুরো বিষয়টিই রহস্যজনক মনে হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে:
১. তথ্যের গোপনীয়তা কেন? যদি এটি আত্মহত্যাই হবে, তবে পরিবারের কাছে মৃত্যুর কারণ জানাতে কর্তৃপক্ষের এত রাখঢাক কেন?
২. মানসিক চাপ নাকি অন্যকিছু? সেনাবাহিনীর মতো একটি কঠোর শৃঙ্খলা পরিবেশে এমন কী ঘটল, যা একজন অভিজ্ঞ সদস্যকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল? নাকি এর আড়ালে রয়েছে কোনো পরিকল্পিত ঘটনা?
৩. পারিপার্শ্বিক প্রমাণ: ঘটনাস্থল থেকে কী ধরনের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট কী বলছে, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব।
সেনানিবাসের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এমন একটি মৃত্যুকে কেবল নিছক ‘আত্মহত্যা’ বলে ধরে নিতে নারাজ অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য আসেনি।
একজন সাহসী সেনাসদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যু কেবল তার পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এটি কি সত্যি সত্যি আত্মহত্যা না অন্য কিছু লুকিয়ে আছে এর ভিতর এটা পরিবারের সদস্যদের দাবি।