মোঃমামুন ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিি
দিনের বেলায় শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকে বিদ্যালয়। অথচ রাতের আঁধারে সেই বিদ্যালয়েই ঘটেছে চুরির ঘটনা। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ গয়াবাড়ি শিশু বিদ্যাবিথী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ছয়টি সিলিং ফ্যান, শিশু শ্রেণির খেলার সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এ সময় অফিস কক্ষের ড্রয়ারের তালা ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে যায় তারা। দোতলায় ওঠার সিঁড়ির কেচি গেটের তালাও ভাঙা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকরা চুরির বিষয়টি দেখতে পান। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকালে সহকারী শিক্ষক লিপি রানী রায় বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে নিচতলার শ্রেণিকক্ষগুলোর দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষগুলোর তালা ভাঙা ছিল। শিশু শ্রেণিসহ দুটি শ্রেণিকক্ষের ছয়টি সিলিং ফ্যান নেই। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন খেলার সামগ্রীও চোরেরা নিয়ে গেছে। অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের দরজার তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দরজার তালা ভাঙা। অফিসের সব ড্রয়ারের তালাও ভাঙা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ড্রয়ারে টাকা থাকতে পারে এমন ধারণা থেকে চোরেরা প্রতিটি ড্রয়ারের তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড্রয়ার ও আলমারির কাগজপত্র বের করে অফিস কক্ষের মেঝেতে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে যায় তারা। এছাড়া দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখে থাকা কেচি গেটের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
চুরির বিষয়টি সহকারী শিক্ষক লিপি রানী রায় তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তহমিদার রহমান বাবলুকে ফোনে জানান। পরে বিদ্যালয়ে এসে তিনিও শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষ ও কেচি গেটের তালা ভাঙা এবং বিভিন্ন মালামাল চুরি যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তহমিদার রহমান বাবলু বলেন, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত খেলার সামগ্রীও নিয়ে গেছে চোরেরা। অফিস কক্ষের ড্রয়ারের তালা ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। স্থানীয় জুলহাস মিয়া বলেন, দক্ষিণ গয়াবাড়ি গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম। শিশুদের ব্যবহারের জিনিসপত্র পর্যন্ত চুরি হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় হযরত আলী বলেন, বিদ্যালয়ে রাতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ পেয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় কবির, সোহেল, রাজ্জাকসহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে চুরি হলে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয় না, শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। তাই বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিমলা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২১৭টি। এর মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও তিনটি বিদ্যালয়ে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ১৪৫টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নেই।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তহমিদার রহমান বাবলু বলেন, এই চুরির ঘটনায় উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা কিংবা শূন্য পদগুলো বরাদ্দের মাধ্যমে পূরণ করা গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডিমলা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তহমিদার রহমান বাবলু লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।