মোঃ মামুন ডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলায় ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সোনাখূলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় ১০৫ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও সরেজমিনে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী হরিহর চন্দ্র রায়সহ চার শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ ও অগ্রিম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগে উত্তর সোনাখূলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলামকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় এসব নোটিশ দেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া উত্তর সোনাখূলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হলেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী হরিহর চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষক জোলমাতুন নুর, সেলিমা বেগম ও সেগুপ্তা মারিয়া। অপর নোটিশটি পেয়েছেন উত্তর সোনাখূলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম।
নোটিশে বলা হয়েছে, উত্তর সোনাখূলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় সফটওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ১০৫ জন। কিন্তু পরিদর্শনকালে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র সাতজনকে। বিষয়টিকে অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বিধিবহির্ভূত এবং কর্তব্যকর্মে চরম অবহেলা ও অসদাচরণের শামিল, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী হরিহর চন্দ্র রায় দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এলেও মুভমেন্ট খাতায় বিদ্যালয় ত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কোনো সহকারী শিক্ষককে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দিয়ে যাননি।
অন্যদিকে উত্তর সোনাখূলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি সকাল ১১টায় বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং পরবর্তী কর্মদিবসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ এবং অগ্রিম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিখনে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন তদন্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল দৈনিক কালবেলায় ‘নথিতে ১০৫ শিক্ষার্থী, সরেজমিনে মিলল মাত্র ৭ জন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোর খাতায়-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক হলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এত কম কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে শিক্ষকদের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে তদারকি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উত্তর সোনাখূলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এবং উত্তর সোনাখূলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।”