মনা নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে আজ (০৫-০১-২০২৬ খ্রি.) ৩টি অভিযোগের বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান ০১:
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন রোধে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সিসি ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জামালপুর হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম পানি উন্নয়ন বোর্ড, জামালপুর -এর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং প্রকল্প সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টিম সরেজমিনে মাদারগঞ্জ উপজেলার পাকেরদহ ও বালিজুরি এলাকার ৬.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে প্রকল্পে প্লেসিং ও ডাম্পিংয়ের জন্য ব্যবহৃত সিসি ব্লকসমূহ পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও নমুনা পর্যালোচনাপূর্বক টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযান ০২:
বিআরটিএ, রংপুর জেলা কার্যালয়ে গাড়ির ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকালে হয়রানি ও ঘুস গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম বর্ণিত বিআরটিএ কার্যালয়ে ছদ্মবেশে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং সেবা প্রত্যাশী জনগণের নিকট থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের মোবাইল ফোনে সংঘটিত বিকাশ লেনদেন যাচাই-বাছাই করে।
যাচাইকালে বিআরটিএর কয়েকজন কর্মচারীর বিকাশ হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় বিষয়টি টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। সংগৃহীত তথ্য ও বিকাশ লেনদেন যাচাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া রয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়।অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযান ০৩:
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ -এ স্বাস্থ্যসেবা সেবা প্রদানে নানাবিধ হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, হবিগঞ্জ হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে বর্ণিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ০২ জন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের চার্ট পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের ওয়াশরুম ও টয়লেটসমূহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করে দুদক টিম। অভিযানকালে লক্ষ্য করা যায় যে, হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদটি শূন্য থাকায় স্থানীয়ভাবে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ল্যাব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তদুপরি, হাসপাতালের এমটি (রেডিওলজি) পদটিও শূন্য থাকায় চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এমটি (রেডিওলজি) সপ্তাহে ০২ (দুই) দিন (রবিবার ও মঙ্গলবার) বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দায়িত্ব পালন করেন মর্মে জানা যায়। সার্বিক বিবেচনায় উক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবলের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অভিযানকালে আরও লক্ষ্য করা যায় যে, ল্যাব পরীক্ষার ফি আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ভাউচার/রশিদ প্রদান করা হয় না; বরং শুধুমাত্র একটি রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি প্রদান করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে ল্যাব পরীক্ষার ফি যথাযথভাবে ভাউচার/রশিদের মাধ্যমে গ্রহণের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।