মনা নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী আলিফা আক্তার রোযামনি (১৩) গত ২১/১২/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৬.০০ ঘটিকার সময় দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় তাদের ভাড়াটিয়া বাসা হতে বাহিরে খেলাধুলা করার জন্য যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় ভিকটিমের মা পারভিন (৪৮) ও তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায় না। অতঃপর ২২/১২/২০২৫ খ্রিঃ ভোর অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় তাদের প্রতিবেশী জনৈক ইয়াসমিন ও তার স্বামী আক্তার হোসেন এর মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার জানতে পারেন যে, দেলোয়ার হোসেন-এর বসত বাড়ির সামনে একটি মেয়ের লাশ পড়ে আছে। উক্ত স্থানে গিয়ে ভিকটিমের মা পারভিন আক্তার তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন এবং বন্দর থানা পুলিশকে সংবাদ দেন।
বন্দর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ইদ্রিস আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং মৃতের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ের জন্য জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের মা পারভিন (৪৮) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে বন্দর থানার এফআইআর নং-২৪, তারিখ-২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ রুজু করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয়ের নির্দেশনায় বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য এসআই (নিঃ) মোঃ ইদ্রিস আলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। উক্ত মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি ও একাধিক বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করা হয়। অতঃপর তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩/১২/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৬.১৫ ঘটিকার সময় বন্দর থানা পুলিশ আসামি ফয়সাল ওরফে বাদশা (২৯), পিতা-মানিক চাঁন ওরফে মানিক মিয়া, মাতা-কামিনা বেগম, সাং-দড়ি সোনাকান্দা (সোনাবিবি রোড), থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামি ফয়সালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামির দেওয়া তথ্যমতে, বন্দর থানাধীন দড়ি সোনাকান্দা সাকিনস্থ সোনাবিবি রোডস্থ আসামির পিতা মানিক চাঁন এর নির্মাণাধীন বিল্ডিং-এর ২য় তলায় রক্ষিত ভাঙা ইটের বস্তার নিচ হতে অত্র মামলার ভিকটিম আলিফা আক্তার রোযামনি (১৩) এর ব্যবহৃত ০১ জোড়া জুতা বাদীর শনাক্ত মতে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে। ধৃত আসামি ফয়সাল মামলার ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।