আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সদরের গোকুলে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ৩ বছর ধরে ঘরে জিম্মি রেখে কঙ্গো দেশের নাগরিকের বৈদেশিক ডলার নিয়ে তাকে নিঃস্ব করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি স্বনির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিক ভিটো বলি বোঙ্গেঙ্গের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় বাংলাদেশে বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের মেড় এলাকার পলাশ নামের এক ব্যক্তির সাথে। পলাশ পেশায় তখন একজন পাখী ব্যবসায়ী। পাখীর ব্যবসা লাভজনক এমন প্রলোভন দিয়ে পলাশ তাকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। তার কথামতো বিশ্বাস করে ১ মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিক ভিটো বলি বোঙ্গেঙ্গে। অতঃপর বাংলাদেশী বগুড়ার পাখি ব্যবসায়ী পলাশের খপ্পরে পড়েন। এবং ৩ বছর ধরে আটকা পড়ে আছেন সেখানে। তাকে জিম্মি করে রাখা হয় গোকুল মেড় সংলগ্ন পলাশের বাড়িতে। বিদেশী এ নাগরিকের অভিযোগ- পাখি ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৭ হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছেন পাখি ব্যবসায়ী পলাশ। সেই সাথে তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও কেড়ে নিয়েছেন পলাশ। এতে মহাবিপদে পড়েছেন ওই বিদেশি। বাংলাদেশে এসেছেন তিনি মাত্র ১ মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে। কিন্তু পলাশ তাকে আটকে দেয়ায় তার ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি এখন অবৈধ অভিবাসী। তাই কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না বিদেশি এ নাগরিক। ফিরে যেতে চান স্ত্রী-সন্তানের কাছে। এই প্রতারণার বিষয়ে তিনি বগুড়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে তার অভিযোগ।
তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, বিদেশি নাগরিক ভিটোকে জিম্মি করে রাখা হয়নি। জিম্মি করলে তিনি কিভাবে থানায় এসে অভিযোগ করে ফিরে গেলেন। আসলে তার ভিসার মেয়াদ ১ মাস শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন তিনি অবৈধ অভিবাসী। পাখি ব্যবসা নিয়ে পলাশের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার। তিনি এখন এই সমস্যা থেকে বের হতে চাইছেন। ফিরতে চান দেশে। তাই কিভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায় সে বিষয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে। বিদেশি নাগরিক ভিটো বলেন, কঙ্গোর এভিগামার কিউ/ইলোসুড কালামু কিনসাশা গ্রামে তার বাড়ি। তার পাখির ব্যবসা রয়েছে। বৈধভাবে তিনি এ ব্যবসা করেন। কঙ্গো থেকে বিভিন্ন দেশে পাখি রপ্তানি করে তিনি আয় করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশে পলাশের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে পলাশ তার কাছ থেকে অনেক বেশি দামে পাখি কিনবে বলে প্রস্তাব দেয় এবং সেইসাথে তাকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। এরপর এক মাস মেয়াদি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর বাংলাদেশের ঢাকায় পা রাখেন তিনি। ঢাকায় বিমান বন্দরে আগে থেকে তার জন্য অপেক্ষা করা পলাশের সঙ্গে তার দেখা হয়। পলাশ ঢাকা থেকে তাকে বগুড়ায় তার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সেখানেই তিনি কিছুদিন থেকে যান এবং ব্যবসায়িক কাজ করেন। এরপর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি তার দেশে ফেরার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পলাশ তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে তার বাড়িতে তাকে জিম্মি করে রাখেন এবং ৭ হাজার ডলারও হাতিয়ে নেয়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তার স্ত্রী কঙ্গোতে বাড়ি বিক্রি করে পলাশের কাছে ডলার পাঠান। কিন্তু এসব অর্থ নেওয়ার পরও তাকে জিম্মি করে রাখে পলাশ। ভিটো আরও বলেন, এ অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি পলাশের বাড়ি থেকে গোপনে বের হন এবং আরেক পাখি ব্যবসায়ী সোহের রানার কাছে সাহায্য চান। সোহেল তাকে বগুড়া সদর থানায় নিয়ে আসেন। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্ত ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।