আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌর শহরে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নন্দীগ্রাম শহর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল যুবক আকস্মিকভাবে শাকিলের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আহত ফিরোজ আহমেদ শাকিল নন্দীগ্রাম শহরের মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং মাঝগ্রাম মহল্লার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে। হামলার ঘটনায় পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি মাঝগ্রাম মহল্লার আব্দুর রউফ স্ট্যালিনের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, শাকিল ও পলিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে এক তরুণীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করেন শাকিল। এ বিষয়টিও হামলার পেছনে কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে রাত প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালে যান জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা দলের কেউ হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না এবং সাংগঠনিকভাবেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহত শাকিলের মা ফিরোজা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।