মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় চালু করা হয়েছে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারনের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট। হাটটি পুনরায় চালু করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১১ মার্চ-২০২৬ ইং তারিখ হাটের উদ্বোধনকালে শার্শা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান,শার্শা বিএনপি’র সভাপতি মো.হাসান জহির জানান, এই হাটটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের অনুসারীরা হাটটি ইজারা নেয়।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হাটের ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম ও অত্যাচার চালাত। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটত। নিরাপত্তার অভাবে ব্যবসায়ীরা আসা বন্ধ করে দিলে হাটটি লোকসানে পড়ে এবং সরকার তা বন্ধ করে দেয়।
৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটটি পুনরায় ইজারা বা ডাকের ব্যবস্থা করা হয়। সর্বোচ্চ দরে হাটটি ইজারা নিয়ে তা পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর হাটটি সচল করা একটি বড় পদক্ষেপ। বর্তমানে হাটটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাটটি বর্তমানে প্রতি বুধবার পরিচালিত হচ্ছে। তবে যদি ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে সপ্তাহে দুই দিন হাট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাটের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী দিন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর হাটটি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুর হাটের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন। তার বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:-
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং পথে যাতে কোনো হয়রানি না হয়, সেজন্য চারটি মোটরসাইকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক টহল দেবে।
কোনো সমস্যা হলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি নেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ জন্য সবার কাছে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
বাজারের উপরে এবং রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে যাতে কেউ ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত বা হয়রানি করতে না পারে।
ব্যবসায়ী ও খামারিদের সুবিধার্থে খাজনার হার কমানো হয়েছে।
আশেপাশের হাটে ১০০০-১১০০ টাকা নেওয়া হলেও এখানে তা কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
অন্যান্য হাটে ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও এখানে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (২০০ টাকা ছাড়)।
হাটে ব্যবসায়ীদের জন্য হোটেল ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে।
পর্যাপ্ত টয়লেট ও বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতে পারবেন।
নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।