
লিটন ইসলাম
জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুর।
১১/১১/২০২৫
গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অমানবিক নির্যাতন করেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে না আসামিদের।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভুগী নারীর স্বামী মো. শাহজাহান আলী, পিতা- মৃত: নুরুল ইসলাম, চিরিরবন্দর আব্বাস ডাকতারপাড়া, থানা- চিরিরবন্দর থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু থানা থেকে দুইদিন পর সেই আবেদনটি গ্রহণ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন স্থানীয় নেতারা চাপ দিচ্ছে মামলা টা নথিভুক্ত না করতে। পরবর্তীতে বিষয়টি সার্কেল অফিসার এর নজরে আনলে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আসামিগণ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন , হাট বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না।
অভিযুক্ত ১. মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), পিতা- মৃত: নজরুল ইসলাম, ২. মো. ফেরদৌসী বেগম (৪০), স্বামী- মো. জাহাঙ্গীর আলম, উভয়ই চিরিরবন্দর আব্বাস ডাকতারপাড়া, থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুরের বাসিন্দা। পূর্ব শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আসামিরা ০৩/১১/২০২৫ তারিখে সকাল ১০.০০ টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে স্বামী – স্ত্রী উভয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে, অভিযুক্তরা রেগে গিয়ে ধাক্কা এবং থাপ্পড় দেয়। অভিযুক্ত নং ১ অভিযুক্ত নারীর স্বামীর কাছে থেকে ইনফিনিক্স হট ১০ মডেলের স্মার্ট ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং হত্যার হুমকি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে, ০৩/১১/২০২৫ তারিখে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উক্ত অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ০৫/১১/২০২৫ তারিখে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬.০০ টায়, স্ত্রী মোশা: ইলা আক্তার বাড়িতে একা থাকার সুযোগে, সেখানে আগে থেকেই থাকা উক্ত অভিযুক্তরা হঠাৎ বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভুক্তভুগী গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও, অভিযুক্ত ১ এবং ২ আমার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে মারধর করে আহত করে, তার শিরা কালো করে, তার স্তন ফুলিয়ে রক্তপাত করে, স্ত্রীর কাপড় ধরে টেনে নিয়ে যায় এবং যৌন নির্যাতন করে এবং স্ত্রীকে তার সারা শরীরে এবং ডান হাঁটুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তাকে অজ্ঞান করে দেয়। উক্ত অভিযুক্তরা সমাজে গুন্ডা, মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী এবং যন্ত্রপ্রেমী এবং ভূমিদস্যুদের একটি দল হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে, অভিযুক্ত ১ মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং জহরুল ইসলাম পাশের বাড়িতে একই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। যার ফৌজদারি মামলা নং ৪৮১৬ এবং জরিমানা পরিশোধের পর তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু দ্বিতীয় আসামি জহরুল ইসলামকে দিনাজপুর জেলা জজ আদালত ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেন, যাকে হাইকোর্ট ১ বছরের অস্থায়ী বন্ডে জামিন দেন এই শর্তে যে তিনি আর কখনও কোনও অপরাধ করবেন না। ইলা আক্তার এর চিৎকার শুনে এলাকার স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পালানোর সময় হুমকি দেয় যে রাতের অন্ধকারে যদি তোমাকে রাস্তায় একা পাওয়া যায়, তাহলে তারা তোমাকে সেখানেই মেরে ফেলবে এবং তোমার লাশ লুকিয়ে রাখবে। ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ১. মো. জালাল উদ্দিন, পিতা- মৃত: হাফেজ উদ্দিন, ২. মো. রোকসানা বানু, স্বামী- জাকির হোসেন, উভয়ই- চিরিরবন্দর আব্বাস ডাকতারপাড়া, থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর, এবং এলাকার আরও অনেকেই ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এবং শুনেছেন। এলাকার লোকজন ইলা আক্তার কে চিকিৎসার জন্য চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং স্ত্রী দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর, বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সাথে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানা থেকে প্রথম দুইদিন কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মামলা রুজু হলেও আসামি ধরার বিষয়ে তেমন কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।