
জেনেভা থেকে বিশেষ প্রতিনিধিঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দমন-পীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বক্তাদের।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ৬০তম অধিবেশন চলাকালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
“বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের লঙ্ঘন” শীর্ষক এই সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেকুলার বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশের প্রায় একশ প্রতিনিধি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও সম্পাদকীয় মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাবিবে মিল্লাত বলেন, “জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যদি সংস্থার নিজস্ব সম্পাদকীয় মান অনুসরণ না করে থাকে, তবে কেন এটি প্রকাশ করা হলো?”
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা তার বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী লীগের মতো একটি জনপ্রিয় দলকে বাইরে রেখে যদি কোনো জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয়, তবে তা একটি ‘প্রতারণামূলক নির্বাচন’ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক সুহাস চাকমা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার দাবি করেন।
নেভার এগেইন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নাতালিয়া সিনিয়াভা-পানকোভস্কা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নারী ও শিশু অধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরামের যোগাযোগ পরিচালক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস অ্যাডভোকেসির সভাপতি ডঃ চংসি আয়েহ জোসেফ সেমিনারটি পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষে ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেকুলার বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি রহমান খলিলুর মামুন সকলকে ধন্যবাদ জানান।