
মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ যশোর জেলার শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের মোটা অংকের টাকা পকেটে ভরছেন।
শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রেহেনা খাতুন পিআইও-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে তাকে কেবল উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
রেহেনা খাতুন বলেন, “আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, কিন্তু প্রকল্পের টাকা কোথায় গেছে বা কারা কাজ করেছে তা আমি জানি না। ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত হলে আমি এর দায় নেব না। তিনি আরও জানান, পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু এবং ইউপি প্রশাসক নুরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে টেন্ডারের আড়ালে প্রকল্পগুলো বাইরের ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা(কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভুয়া সদস্য তালিকা তৈরি করে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বেনাপোল পৌর গেট রং ও সৌন্দর্য বর্ধন। শার্শা উপজেলা পরিষদ পার্ক সংস্কার ও উন্নয়ন। বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার প্রকল্প।
এই প্রকল্পগুলোতে নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকায় পিআইও রঞ্জু একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও হরিলুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পিআইওর অবৈধ সম্পদের হিসাব এবং প্রকল্পের সঠিকতা যাচাই করা হোক।
দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শার্শাবাসী।
এ ব্যাপারে জানতে শার্শা উপজেলা(ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে,ফোন রিসিভ করেননি।