
জি.এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ :
ঈদের আনন্দ যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার কথা,ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নেমে আসে আগুনের বিভীষিকা।রাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয় সলঙ্গার চর বাজার।আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কয়েকটি দোকানপাট। নিঃশেষ হয়ে যায় একাধিক ব্যবসায়ীদের জীবিকা।
মঙ্গলবার ঈদের রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের সলঙ্গার চর বাজারে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা,বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।প্রথমে বিএনপি নেতা প্রয়াত আবু হাসেমের রাইস মিল থেকে আগুন জ্বলে ওঠে, পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে।
দেখতে দেখতেই আগুন গ্রাস করে ফেলে কয়েকটি দোকান ঘর।খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসে নিজেদের দোকান বাঁচাতে,কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল এবং বিদ্যুৎ লাইন চালু থাকায় স্থানীয়রা কিছুই রক্ষা করতে পারে নি।
অগ্নিকাণ্ডে মুকুল হোসেন ইসা মেম্বরের সার,ঔষধ,কীটনাশক ও লোডের দোকান,নাজমুল হাসানের ঔষধের দোকান,দুটি কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম,ওয়াসিমের সেলুন ঘর, অন্তরের ইলেকট্রনিক দোকান, আলামিনের মনোহারী দোকান,১৫০ সিসি সচল মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি।
খবর পেয়ে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সরু রাস্তার কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়।এর আগেই স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।তাদের এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগ বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাজারের অন্যান্য দোকানকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চোখে এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।ঈদের আনন্দ তাদের জন্য পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান,ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।মানবিক সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবী এখন এলাকাবাসীর।